বিজয়নগরের মনিপুরে চাচি কে নিয়ে ভাতিজা উধাও

0
840

বিজয়নগরের মনিপুরে চাচিকে নিয়ে ভাতিজা উধাও

বিশেষ প্রতিনিধি বিজয়নগর

সৌদিআরব প্রবাসীর ৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে ২৪ বছর বয়সী মহিলা মাদরাসার শিক্ষিকা চাচি, ২৪ বছর বয়সী ভাতিজার সঙ্গে নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনাটি এলাকা জুড়ে চলছে সমালোচনা। স্ত্রী কে নিজের সংসারে ফিরিয়ে আনতে না পেরে অভিমান করে সৌদিআরব চলে গেলেন প্রবাসী স্বামী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউপির মনিপুর (কল্যাণপুর) এর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার পত্তন ইউপির মনিপুর কল্যাণপুরের মনজুর আলী র ছেলে সৌদিআরব প্রবাসী আবদুল কাদেরের সাথে ৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে একই এলাকার হেবজু মিয়ার মেয়ে খোদেজা বেগম এর বিয়ে হয়। ৬ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাঁরা সন্তানের জনক-জননী হতে পারেনি। বিয়ের আগ থেকেই স্বামী প্রবাসে থাকায়, বিয়ের পর সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে খোদেজা বেগম কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবাসিক মহিলা মাদরাসায় রেখে পড়াশোনা করিয়েছে স্বামী আবদুল কাদের।

জামাতে মিজান পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর বাড়ীর পাশেই মহিলা মাদরাসায় চাকুরী শুরু করে শিক্ষিকা হিসেবে । ৬ বছর দাম্পত্য জীবনে ৩ মাস করে ৩ বার ছুটিতে দেশে এসেছে প্রবাসী আবদুল কাদের। প্রায় এক যুগ ধরে আবদুল কাদের সৌদিআরবে একটি কোম্পানিতে হেভি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছেন।

বাড়ীর পাশে সুন্দরী চাচী, মহিলা মাদরাসার শিক্ষিকার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতে একই এলাকার দানু মিয়ার ছেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস শেষ করে আজমপুর মসজিদের খতীব মাওলানা যয়নাল ইসলাম তাকি চেষ্টা শুরু করেন। দুজনের পরকিয়া প্রেম ভালবাসায় শুরু থেকেই একই এলাকার সামসু মিয়ার ছেলে মোস্তাকিম সহযোগিতা করেন।

চাচি-ভাতিজার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক স্বামী স্ত্রী হিসেবে রুপ দিতে স্বামী বিদেশ থেকে ছুটিতে দেশে আসবে শুনে ১৩ ই এপ্রিল মাদরাসা থেকে মাথা ব্যথা করতেছে বলে পালিয়ে যায় খোদেজা বেগম। দুইদিন পর আবার বাড়ীতে ফিরে আসে। ২৬ এপ্রিল প্রবাসী স্বামী আবদুল কাদেরের জন্য কাপড় কিনতে ও নিজেকে ডাক্তার দেখাতে মা জোসনা বেগম এর সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যায়। কাপড় কেনা অবস্থায় মাকে ফাঁকি দিয়ে খোদেজা বেগম আবার নিরুদ্দেশ হয়। প্রবাসী স্বামী আবদুল কাদের স্ত্রীর বেপরোয়া চলাফেরা শুনতে পেয়ে তাড়হুড়ো করে ২৭ এপ্রিল দেশে চলে আসে। 

দেশে এসে ১২ দিন পর খোদেজা বেগম এর বান্ধবীর বাড়ী ভৈরব থেকে উদ্ধার করে আবদুল কাদের বাড়ীতে নিয়ে আসে। বাড়ীতে ফিরে এসে স্বামীর সাথে মিলেমিশে কয়েকদিন কাটিয়ে ৩০ মে রাতে দুধের সাথে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে স্বামীকে অচেতন করে খোদেজা বেগম পালিয়ে যায়। ৩১ মে সকালে শাশুড়ী জোসনা বেগম এর ডাকাডাকিতে চেতন ফিরে আসে আবদুল কাদেরের।

অনেক খোজাখুজি করে খোদেজা বেগমকে না পেয়ে সন্দেহ জনক ভাবে একই এলাকার সামসু মিয়ার ছেলে মোস্তাকিম এর পরিবারকে সামাজিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতে ফলপ্রসূ না হওয়ায় খোদেজা বেগম এর পিতা হেবজু মিয়া বাদী হয়ে একই এলাকার মো. সামসু মিয়ার ছেলে মুস্তাকিম সহ ৫ জন কে বিবাদী করে বিজয়নগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ বরাবর একটি অভিযোগ জমা দেন।

আবদুল কাদের নিজের মোবাইলে বাতিজা মাওলানা যয়নাল ইসলাম তাকি র নাম্বারে প্রচুর কল দেখতে পায়। আবদুল কাদেরের মোবাইল থেকে যয়নাল ইসলাম কে এত ফোন কে দিয়েছে জানতে তাকে ফোন করেন। নিজের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কাকার সাথে কথা বলবে বলে ফোন কেটে দেয়। মাওলানা যয়নাল ইসলাম বাড়ীতে এসে আবদুল কাদেরের সাথে দেখা না করায় মুস্তাকিম কে বাদ দিয়ে যয়নাল আবেদিন কে সন্দেহ শুরু হয়। সামাজিক ও প্রশাসনিক চাপে পড়ে মুস্তাকিম মাওলানা যয়নাল আবেদিন তাকি আর খোদেজা বেগম এর পরকিয়া সম্পর্কের কথা পরিবার ও সমাজের সবার কাছে জানিয়ে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্র জানায়, ভাতিজা, চাচিকে বিবাহ করে সংসার করা ইসলাম সম্মত নয়। সামাজিক ভাবে ও এটা গর্হিত কাজ। মাওলানা যয়নাল ইসলাম তাকি নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পত্তন ছাত্র ওলামা পরিষদ সংগঠনের সদস্যপদ সহ সকল প্রকার কর্মকাণ্ড থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি নিজের কৃতকর্মের গোনাহ থেকে রেহাই পেতে আল্লাহ তালার কাছে তাওবা করার ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খোদেজা বেগমকে তার স্বামী সৌদিআরব প্রবাসী আবদুল কাদের তালাক না দেয়া পর্যন্ত বিবাহ করা শরীয়তে জায়েজ নয় এই মর্মে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসা থেকে ফতোয়া এনে এলাকার জনসাধারণের মাঝে বিতরণ করার ও সিদ্ধান্ত নেন পত্তন ছাত্র ওলামা পরিষদ এর কার্যকরী পরিষদ ও উপদেষ্টা কমিটি।

আবদুল কাদের আর খোদেজা বেগম এর ২০১৬ ইং এর ৯ সেপ্টেম্বর বিবাহ নয়। বিবাহের সময় তাদের কাবিন হয়নি। তবু ১৫ জুন ২০২২ ইং খোদেজা বেগম স্বাক্ষরিত নোটারী করে আবদুল কাদের কে তিন তালাক দেয়। আবদুল কাদের পরনারী ও যৌতুক লোভী, নারী নির্যাতন সহ নেশা বিক্রয় ও সেবনে আসক্ত এসব অভিযোগ তালাকনামায় উল্লেখ করা হয়। আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে দাবী করেন এলাকার বাসী।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা পত্তন ইউপির বিট পুলিশ এএসআই জুয়েল উক্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খোদেজা বেগম এর সন্ধান চেয়ে তার পিতা হেবজু মিয়া বিজয়নগর থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলাকালে তার পরিবারের পক্ষ থেকে খোদেজা কে পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি পারিবারিক ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।

বিজয়নগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মির্জা মুহাম্মদ হাছান বলেন, মনিপুরের এক সৌদিআরব  প্রবাসীর স্ত্রী একাধিক বার নিজ বাড়ী থেকে পালিয়ে গেছে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর এএসআই জুয়েল কে এবিষয়ে খবর নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্ত চলাকালে মেয়ের বাবা জানিয়েছে মেয়েটি নিজে নিজেই বাড়ীতে ফিরেছে। এর বেশী কিছু আমরা জানিনা। আমাদের কাছে এই বিষয়ে আর কোন অভিযোগ ও আসেনি।

এমএ/বিএন